স্টাফ রিপোর্টার : ঘূর্ণিঝড় আম্পান মধ্যরাতে সাতক্ষীরা-ঝিনাইদহ হয়ে উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে স্থল নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে যাওয়ায় মোংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকায় সংকেত পরিবর্তন করে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এটি এখন রাজশাহী ও পাবনা অঞ্চলে অবস্থান করছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীতে ভোর ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৭৬ মিলিমিটার। আর এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ঈশ্বরদীতে ১৭০ মিলিমিটার।

আম্পান অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫১ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানে সাতক্ষীরায়। এটি ছিল বাংলাদেশে আম্পানের সর্বোচ্চ গতি বলেও জানায় আবহাওয়া অফিস। আম্পানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল। ইতোমধ্যে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাঁধগুলোর অর্ধশত পয়েন্ট ভেঙে গেছে। জনপদে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। বিধ্বস্ত হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি, উপড়ে পড়েছে গাছপালা।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে মাঝারি বৃষ্টিপাত আগামীকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এছাড়া আবহাওয়া অফিসের মধ্যরাতের বুলেটিনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের জেলাসমূহে ভারি বৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আম্পান একই অঞ্চলে কিছু সময়ের বিরতিতে দুইবার আঘাত হানে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একটা ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাসার্ধ থাকে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। আর ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র থাকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাস থাকে কম আকাশ থাকে পরিষ্কার। ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাসার্ধের সম্মুখ অংশ প্রথমে আঘাত হানে। তারপর যখন কেন্দ্রের অংশে যায়, তখন বাতাস কমে যায়। কেন্দ্র অংশ অতিক্রম করার পর ঘূর্ণিঝড়ের পেছনের অংশ আবার আঘাত করে প্রবল গতিতে। গত সারারাতে বাংলাদেশে এভাবে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড়টি।
আম্পান প্রথম ও শেষ আঘাতে বাতাস বেশি ছিল, মাঝখানে বাতাস কম ছিল।