শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে শিশুদের ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের প্রার্দুভাব

  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৫ দেখেছেন
ঠাকুরগাঁওয়ে শিশুদের ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের প্রার্দুভাব

ঠাকুরগাঁওয়ে সদর হাসপাতালে বেড়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীতের কারণে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়েও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে অনেকে।

ঠাকুরগাঁওয়ে সকল উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুলোর ছবি প্রায় একই রকম। শিশুদের সঙ্গে সঙ্গে বয়স্করাও ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় আগের চেয়ে বেশি হারে আসছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকেরা মনে করছেন।

জায়গা সংকটের কারণে এসব শিশুদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে তিন শতাধিক শিশুকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রতিদিন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় গ্রামগঞ্জে আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য শিশু। সদর হাসপাতালে শয্যা না থাকায় মেঝেতে রেখে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে ২৩০ টি শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২১০ টি ডায়রিয়ায় এবং ৬০ টি নিউমোনিয়ায় ও পেট ব্যাথা রোগে ৩০ টি আক্রান্ত। আউট ডোরে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে আরও এক শতাধিক শিশুকে। যেসব শিশুর অবস্থা বেগতিক শুধুমাত্র তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।

গত দু’দিন থেকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দেখা গেছে ৩০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে ১২০ টি শিশু। শিশুদের সঙ্গে তাদের আত্মীয় স্বজন আসায় গিজগিজ করছে ওয়ার্ড। শিশু ওয়ার্ডে ৭০ জন ডায়রিয়ার এবং ৫০ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু ভর্তি আছে। বেড সঙ্কটের কারণে ওয়ার্ডের ও বারান্দার রাস্তার মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বেশিরভাগ শিশুকে।

বারান্দায় আশ্রয় না পেয়ে কাউকে হাসপাতালের দাড়িয়ে শিশুর চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। বারান্দার বিছানার লাইন শিশু ওয়ার্ডের বারান্দা পেরিয়ে চলে গিয়েছে গাইনি ওয়ার্ডের বারান্দা পর্যন্ত। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের কান্না ও অভিভাবকদের চিৎকারে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। জায়গা সংকট ও জনবল সঙ্কটের কারণে চিকিৎসকরা আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাজাহান নেওয়াজ বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে শীতকালে সাধারনত রোটা ভাইরাস ডায়েরিয়া নামক অসুখটি বেড়ে যায়। বাসিঁ খাবার ও ঠান্ডা খাবার খেলে এই ডায়েরিয়াটা বেড়ে যায়। তাই তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ করেন বাচ্চাকে ফ্রেস খাবার খাওয়ানোর জন্য এবং হাল্কা গরম পানি খাওয়ানোর।

সিভিল সার্জন ডা. মাহাফুজুর রহমান বলেন, শীত কালে সাধারন্ত ডায়েরিয়া বা নিমুনিয়া রোগের প্রাদূর্ভাব বেড়ে যায়। তাই সকলকে তিনি মুখে মার্স্ক, ঠান্ডা পানি পরিহার করার উপদেশ দেন এবং পাশাপাশি ফলমুল ধুয়ে ও খেজুরের রস পরিহার করার অনুরোধ করেন। কোভিডের চাপে ওপর এই চাপ কত দিন সহনীয় পর্যায়ে থাকবে, তা বলা মুশকিল। তা ছাড়া ঠান্ডাজনিত অনেক রোগের লক্ষণের সঙ্গে কোভিডে আক্রান্ত রোগীর লক্ষণের সঙ্গে মিল থাকায় জটিল পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অনন্য সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বসত্ব ® Deshersamoy.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Design & Developed By BlogTheme.Com