স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা-মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দেশের মধ্যাঞ্চলের ৬ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। আর নতুন করে প্লাবিত হয়েছে কিছু এলাকা। তবে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে থাকলেও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের বন্যা অপরিবর্তিত। দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যা দিন দিন প্রকট হয়েছে উঠেছে।

ফরিদপুরের গোয়লন্দ পয়েন্টে আজ (শনিবার) সকালে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে প্লাবিত হয় চর ও নিম্নাঞ্চলের বেশকিছু নতুন এলাকা। এমনকি ডুবে গেছে সড়ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি।

উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার উপরে থাকলেও নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। লালমনিরহাটে পানির নিচে ৭৮ হেক্টর জমির ফসল। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বাড়ছে ঘা ও পাচরাসহ পানিবাহিত নানান ধরণের রোগ।

কুড়িগ্রামে গৃহহীনরা শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকটে। তাই ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ অনেকেরই।

বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে মধ্যাঞ্চলের কয়েক জেলায়। সিরাজগঞ্জের ৫ উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বেড়িবাঁধ ও রাস্তাঘাট।

ওদিকে জামালপুরে পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে এ পর্যন্ত ৯ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ অনেকেরই। আর টাঙ্গাইলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি।

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সুনামগঞ্জে ৪ উপজেলার পানিবন্দি ২ লক্ষাধিক মানুষ পানি ও খাদ্য সংকটে। ৩ হাজার টিউবওয়েল পানির নিচে। এদিকে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর ও জামালগঞ্জে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।