স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম, সরিয়ে দেয়া হচ্ছে ডজন খানেক কর্মকর্তা

করোনা সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের দায়ে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে ডজন খানেক সরকারি কর্মকর্তা। এরই মধ্যে বদলি করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালকসহ ছয়জনকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও পরিচালক ইকবাল কবীরসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মে জড়িতদের খুঁজতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।

এপ্রিলে এন-৯৫ মাস্কের মোড়কে সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করে জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে তদন্ত শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন এন-৯৫ মাস্কের চালানে কম মাস্ক সরবরাহ করে বেশি বিল দাবি করে। এছাড়া, কেএন-৯৫ মাস্ক আমদানিতে ভুয়া কাগজপত্র দেখানোর অভিযোগে এলান করপোরেশনের মালিক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ করোনা রোগীদের হাসপাতাল তৈরিতে ২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকার প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। কিন্তু সে টাকায় কেনা হচ্ছে পিপিই, গগলসসহ নানা সুরক্ষা সরঞ্জাম।

দেশে করোনার সংক্রমণের পর গ্লাভস, মাস্ক, পিপিই, কোভিড হাসপাতালের সরঞ্জামসহ প্রায় ৯০০ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকেই পণ্যের দর বেঁধে দেয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা পণ্যের বিল পাননি বেশিরভাগ ব্যবসায়ী। অনেক ক্ষেত্রে মৌখিক আদেশেই পণ্য সরবরাহ শুরু করেন তারা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে রাতারাতি তৈরি হয় চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের দুই ডজন ব্যবসায়ী।

করনোর মধ্যেই সিএমএসডি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে পরিচালককে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা সচিবসহ আরো পাঁচজনকে অন্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিব্রত সরকার দলের জনপ্রতিনিধিরাও।

সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটায় জড়িত দুর্নীতিবাজদের খুঁজতে চার সদস্যের একটি কমিটি করেছে দুদক। সব কেনাকাটার দলিল চাওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য সচিব, অধিদপ্তর ও সিএমএসডির কাছে।

গেল বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ১৪ ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক। তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ যার বিরুদ্ধে সেই মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর নাম তালিকায় নেই।

সিএমএসডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিঠুর মালিকানায় অন্তত ৪২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেগুলোর কোনটির মালিকানায় তার নামের উল্লেখ নেই। তাই দুদক চাইলেও স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় দুর্নীতির মূল হোতাদের ধরতে পারবে না।

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Copyright © 2019-2021 All rights reserved and protected Frontier Theme
%d bloggers like this: