হাকিকুল ইসলাম খোকন ,বাপসনিঊজ:তৃতীয় বিশ্বের দেশ হলেও বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে সামনে এগিয়ে গিয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু গবেষণা রিপোর্টে এসকল তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন প্রায় ২০ বছর বাংলাদেশের প্রধান নিবার্হী বা প্রধানমন্ত্রী পদে নারী অধিষ্ঠিত আছেন। এখন জাতীয় সংসদের অনেক নারী সদস্য আছেন। মন্ত্রিসভা আছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী। এছাড়াও গত প্রায় আট বছর স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন নারী, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন নারী, অনেক জেলার জেলা প্রশাসক অনেক নারী, অনেক সচিবও আছেন নারী, শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীরা অনেক দূর এগিয়েছে। তার অন্যতম উদাহরন চিকিৎসা ও আইনজীবী হিসেবে অনেক নারী প্রতিষ্ঠিত। অনেক নারী আছেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক। তারপরও এ দেশের নারী সহিংসতার কমছে না এর জন্য দায়ী আমাদের মন-মানসিকতা, রাষ্ট্রীয় ও অব্যবস্থাপনা এবং অদূরদর্শিতা এগুলো দূর করতে আমাদের সকলকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, না হলে জাতি হিসেবে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়বো এবং সারা বিশ্ব থেকে ছিটকে যাব তাই এখনই সময় নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। গত ২৩ আগস্ট, রবিবার বিকাল ৪.০০ টায় ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর আয়োজনে “নারীর ক্ষমতায়ন” শীর্ষক অনলাইন জুম ওয়েবিনারের আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। খবর বাপসনিঊজ।

আলোচনা সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ^বিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাহসিনা ইয়াসমিন বলেন, নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু অর্জন আছে। রাজনীতি, গবেষনা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিক অঙ্গনে নারীদের অর্জন অনেক। আইন ও চিকিৎসা পেশায় নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়েছেন। অনেক নারী নিজের যোগ্যতায় অদিষ্টিত হয়েছেন উচ্ছ আদালতের বিচারক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহান জাতীয় সংসদেও স্পীকার, বিশ^বিদ্যঅলয়ের ভিসি, সচিব, ও ডিসি হয়েছেন। কিন্ত এই অর্জন গুলোকে ঝুকিতে ফেলে দিচ্ছে নানা রকম সহিংসতা। আমাদের দেশের বিজ্ঞাপনগুলোতেও নারীদেরকে হেয় করে উপস্থাপন করা হয়। উক্ত সব বিজ্ঞাপনে নারীদেও কর্মদক্ষতার থেকে বিভিন্ন পোশাক ও কিকি পশাধনী ব্যবহার করেছেন তাকে অধিকগুরত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই সব কারণে নারীরা আরো বেশি পরিমান অবজ্ঞা, অবহেলা এবং সহিংসতার বিকার হচ্ছেন। এসব বন্ধে আমাদের সকলকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে এখনই।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক দেবরা ইফরইমসন বলেন, নারী-পুরুষ মিলেমিশে সমাজ গঠিত হয়। কাউকে অবজ্ঞা বা অবহেলা করে সমাজকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলা বা পরিপুর্ণতা দেওয়া সম্ভব হবে না। নারীর কাজের সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ঠ্রীয় স্বীকৃতি সমাজকে আরো সুন্দর করে তুলতে পারে। নারীরা সমাজে বিভিন্ন ভাবে ভ’মিকা রাখেছে তার একটি সামাজিক স্বীকৃতি এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠে নি। আমাদের সকলকে নারীর কাজের স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ব্যক্তি পর্যায়েও সচেতনতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাক্ষতে পারে।

তেজগাঁও কলেজ এর মাকের্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবা বেগম বলেন, নারী হিসাবে আমাদের এখনো নিজদের আন্তমর্যাদা রক্ষায় সংগ্রাম কওে যেতে হচ্ছে। আমরা পেশাগত কাজে স্বীকৃতি ও মর্যাদা যেরকম পেয়ে থাকি, গৃহস্থালী কাজে তেমন মর্যাদা এখনো সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে মিলছেনা। রাষ্ট্র আন্তরিক ভাবে চাইলে এই সব কাজের স্বীকৃতির জন্য কাজ করতে পারেন। এছাড়াও আমাদেও মানসিকতারও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আমাদের মা, বোন, স্ত্রীর কাজের স্বীকৃতি দিলেই সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

সারথী নিউজের জেলা প্রতিনিধি সোহানা শারমিন ডালিয়া বলেন, যেসব নারীর ক্ষেত্রে পরিবাওে শক্তিশালী ভাবে সার্পোট নেই, সেই সব নারীরা অন্যদের থেকে আরো বেশি ফেচনে পড়ে আছেন। এখনো নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারি নাই। গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নারীদেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও ভঞ্চনার শিকার হতে হয়। কর্মক্ষেত্রে নারীদেও অনেক অর্জন থাকলেও পারিবারি ও রাষ্ঠ্রীয় ভাবে পারিবারে গৃহস্থালী সেবামূলক কাজগুলোর নারীদের কোনো প্রকার স্বীকৃতি নেই। এ বিষয়টি নারী ক্ষমতায়ন ও মর্যাদায়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা। আমাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সব বাধা দূর করা সম্ভব।

ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর নেটওয়ার্ক অফিসার শান্তনু বিশ^াস এর সঞ্চালনায় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী, প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দা অনন্যা রহমান, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর মাহামুদুল হাসান এবং এছাড়াও অংশগ্রহণ করেন সাউথইষ্ট বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।