ঢাকা বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০: অবিলম্বে বাউফলের সাংবাদিক মিজানসহ দেশের সকল সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় শীঘ্রই দেশব্যাপী সাংবাদিকরা কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে মূখোশ ষড়যন্ত্রকারীদের উম্মোচনেরও হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম।

বৃহস্পতিবার বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কতটা বেহায়া হলে একজন পেশাদার সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালের সময়কে হত্যা ঘটনার সাথে জড়িয়ে অন্যায় ভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রাণীর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠতে পারে।

অবিলম্বে সাংবাদিক মিজানকে পুলিশি হয়রাণী বন্ধসহ মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে বিএমএসএফ’র সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারন সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর বলেন, দেশে সাংবাদিক নিপিড়িন ও হয়রাণীর মহোৎসব চলছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে সুরক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই। যা হতাশাজনক। সাংবাদিকের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ থেকে উত্তরন জরুরী।

দেশে অব্যাহত ভাবে সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রাণী বেড়ে যাওয়ায় জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বর্তমান সমস্যা সমাধানের কৌশল সফল করতে সরকারকে সহযোগিতার আহবান জানানো হয়।

জানাগেছে, দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিনিধি মিজানকে ইতিপূর্বে মিজানকে নারী নির্যাতন মামলাসহ একাধিক মামলায় হয়রাণী করেছে চক্রটি। সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে এরকম শতশত সাংবাদিক প্রতিনিয়ত হয়রাণী, মামলা, হামলা ও লাঞ্ছিতের শিকার হচ্ছে। যা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য পীড়াদায়ক ও গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকিস্বরুপ।

বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে আমরা নিশ্চিত হয়েছি সাংবাদিক মিজান ঘটনাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলো। যা স্থানীয় সাংবাদিকের ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবিতে স্পস্ট। কিন্তু স্থানীয় এমপি ও সাবেক হুইপ আসম ফিরোজের ঈশারায় তাকে আসামি করা হয়েছে। যা সারাদেশের সাংবাদিকরা আজ নিশ্চিত হয়ে নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে ফুঁসে উঠছে।

বাউফলের মিজান ছাড়াও কুমিল্লার মাহফুজ বাবু, নরসিংদীর পুলিশি মামলায় ৩ সাংবাদিক, কক্সবাজারের শহীদুল্লাহ, হবিগঞ্জের সুশান্ত ঘোষ, পলাশবাড়ীর রতন, কুড়িগ্রামের রাজারহাটের রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকার নিখোঁজ সাংবাদিক কাজলসহ করোনায় ত্রানকান্ডে মামলার শিকার সাংবাদিকদের নি:শর্ত মুক্তি ও মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার কক্সবাজার রামুর জোয়ারিয়ানালায় ইয়াবা ব্যবসায়ী কর্তৃক আবুল কালাম আজাদ নামের এক সাংবাদিকের চোখে মরিচের গুড়া দিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করে বিএমএসএফ।

সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে অন্যায় ভাবে মামলার শিকার দেশের সকল সাংবাদিককে অব্যাহতি প্রদানের জোড় দাবি করা হয়। পাশাপাশি সরকার সংশ্লিষ্টদের দেশে চলমান মহামারী করোনায় সাংবাদিকের প্রতি আন্তরিক হওয়ারও আহবান করা হয়েছে।