শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১২:১৫ অপরাহ্ন

শেরপুরের মন্ডা খ্যাতি ছড়াচ্ছে দেশ-বিদেশে

  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪৮ দেখেছেন
শেরপুরের মন্ডা খ্যাতি ছড়াচ্ছে দেশ-বিদেশে

দেশের বিখ্যাত মন্ডা হিসেবে পরিচিত মুক্তাগাছার মন্ডার পর এবার দেশ-বিদেশে খ্যাতি ছড়াচ্ছে শেরপুরের মন্ডা। ইতোমধ্যে ই-কমার্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে এই মন্ডা। কেবল অনলাইন গ্রাহকদের মাধ্যমে মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কেজি মন্ডা বিক্রি করছে জেলা ওয়েবসাইট ‘আওয়ার শেরপুর’। এছাড়া জেলার লোকজন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আত্মীয়র বাড়িতেও পাঠাচ্ছেন এই মন্ডা। শেরপুরের এই সুস্বাদু মন্ডা দেশের গন্ডি পেরিয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, কানাডা, দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ প্রতিবেশী দেশ ভারতেও যাচ্ছে হরহামেশাই।

মন্ডা ব্যবসায়ীরা বলেন, মন্ডা তৈরি করতে প্রথমে খাঁটি দুধ থেকে ছানা তৈরি করা হয়। পরে সেই ছানার সাথে ক্ষীর, সামান্য চিনি ও এলাচি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ জাল দিয়ে মন্ডার ছানা তৈরি শেষে তা আকৃতি দেয়া হয়।

শেরপুর জেলা সদরসহ অন্যান্য উপজেলায় বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে মন্ডা বিক্রি হলেও শহরের প্রসিদ্ধ বেশ কয়েকটি মিষ্টির দোকানের মন্ডার খ্যাতি রয়েছে বেশি। এরমধ্যে অনুরাধা, আদি গিরীশ ও স্বদেশের দোকানের মন্ডার বেশি চাহিদা রয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পরপরই এসব দোকানের মন্ডা বিক্রি হয়ে শেষ হয়ে যায়।

শেরপুর শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও অফিস-আদালতে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রসগোল্লা বা অন্য মিষ্টির চেয়ে এই মন্ডা দিয়ে আপ্যায়ন করাটা এখন রেওয়াজ হয়ে উঠেছে। এছাড়া আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া সময় মিষ্টির বিকল্প হয়ে গেছে এই মন্ডা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ছানা, ক্ষীর, এলাচি ও চিনির সমন্বয়ে মন্ডা উৎপাদন হওয়ায় এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ডি, বি-১২, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, রিবোফ্লাভিন, ম্যাগনেশিয়াম, নিয়াসিন। যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। অনেকেই আছেন, যারা সরাসরি দুধ খেতে পারেন না, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে এ মন্ডা খেতে কোনো সমস্যা হয় না।

শহরের মন্ডা ব্যবসায়ী বাপ্পি দে বলেন, আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে অন্যান্য মিষ্টির পাশাপাশি মন্ডা তৈরি করি। এই মন্ডা দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, কানাডা, দুবাই ও ভারতের প্রবাসীরা বিদেশ যাওয়ার সময় এই মন্ডা নিয়ে যায়। প্রতি কেজি মন্ডা বিক্রি করা হয় ৬৫০ টাকায়। আর প্রতি পিস ২০ টাকা দরে পাওয়া যায়।

আওয়ার শেরপুরের প্রকাশক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ শেরপুরের বিখ্যাত মন্ডা দেশবাসীর দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে শেরপুরের এই মন্ডা অনলাইনের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ায় খ্যাতি ছড়াচ্ছে। গত দুই মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লায় পাঠিয়েছি। অনলাইনে যারা এ মন্ডা খেয়েছেন, তাদের অনেকেই শেরপুরের মন্ডার ভূয়সী প্রশংসা করে তাদের নিজ নিজ ফেসবুক পেজে লিখছেন প্রশংসার কথা।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অনন্য সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বসত্ব ® Deshersamoy.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Design & Developed By BlogTheme.Com