স্টাফ রিপোর্টারঃ ভুল চিকিৎসার অভিযোগে কুমিল্লার বরুড়া ফেয়ার হসপিটালের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও সার্জন ডাঃ মোঃ রাশেদ উজ জামান (রাজিব) এর বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা হয়েছে।
রোববার উপজেলার পৌর এলাকার কাসেম সফি উল্ল্যাহর ছেলে তানজিদ সফি অন্তর বাদী হয়ে কুমিল্লা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতে মামটাটি দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখে বরুড়া মৌলভীবাজারে অবস্থিত ফেয়ার হসপিটালে তানজিদ সফি অন্তর এর বোন নাফসি জাহান পেটের ব্যাথা ও বমির উদবেগ নিয়ে ডাঃ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের কাছে চিকিৎসা নিতে নেন। এ সময় তিনি নাফসি জাহানকে কোনো প্রকার পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই তার পেটে এ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে দ্রুত অপারেশন করতে বলেন। পরে ডাঃ মোহাম্মদ ইকবাল ডাঃ রাশেদ উজ জামান রাজিবের সাথে যোগাযোগ করিয়া নাফসি জাহানের অপারেশন করান। পরে ডাঃ ইকবাল ও ডাঃ রাজিব অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে তানজিদ সফি অন্তরকে বলেন আপনার বোনের এ্যাপেন্ড্রিসাইটিজ হয়নি। তার পেটে ৫/৫ সাইজের ওভারিয়ন চীষ্টে হয়েছে। ভয়ের কিছু নাই, এটা সব মেয়েদেরই হয়ে থাকে। এটা কেটে ফেলা হয়েছে। পরে নাফসি ২১ এপ্রিল আবারও অপারেশনের স্থানে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে ডাঃ ইকবালের কাছে আসেন। তিনি নাফসিকে দেখে সেলাইয়ের স্থানে পুঁজ হয়েছে বলে ড্রেসিং করতে বলেন। ২৬ এপ্রিল ও ৫ জুন আবারও নাফসি সেলাইয়ের স্থানে ব্যাথা নিয়ে ডাঃ ইকবালের কাছে আসেন। ডাঃ ইকবাল তাকে নিয়মিত ড্রেসিং করে এন্টিবায়োটিক ও ব্যাথার ঔষধ চালিয়ে যেতে বলেন। পরবর্তীতে নাফসির পেটের ব্যাথার সাথে জ্বর বাড়তে থাকে। ১৪ জুন আবারও ওই ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি নাফসিকে আল্ট্টাসনোগ্রাফি ও পশ্রাবের পরীক্ষার রিপোর্টে তার ইনফেকশন হয়েছে বলে হাই এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেতে বলেন। ২৪ জুন নাফসির পিরিয়ড এর সাথে অপারেশনের স্থানে প্রচন্ড ব্যাথা আরম্ভ হলে আবারও ফেয়ার হসপিটালে ভর্তি করে করান। পরবর্তীতে আবারও নাফসির পেটে ব্যাথা বেশি দেখা দেয়ায় ৭ জুলাই নিজ উদ্যোগে কুমিল্লা শহরের শেফা ডায়াগনস্টিক ও মেডিনোোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। এতে দেখা যায় নাফসির পেটে তার পেটে অপারেশনের স্থানে নরম তুলতুলে কিছু একটা আছে। এটা থেকে পুঁজ সৃস্টি হয়। পরে তারা ডাঃ ইকবালের কাছ ওই রিপোর্ট নিয়ে গেলে তিনি নাফসিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাঃ রাশেদ উজ জামান রাজিবের কাছে পাঠায়। পরে ডাঃ রাজিব নাফসিকে ডাঃ মাহমুদুর এর তত্বাবধানে ভর্তি করান। ১৫ জুলাই আবারও নাফসির সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হলে তার পেটে কিছু একটা আছে, যরা কারনে সেখানে পুঁজের সৃষ্টি হয়। পরে আবারও অপারেশন করে দেখা যায় আগের অপারেশনের ডাক্তার নাফসির পেট গজ রেখেই শেলাই করে দেয়। উল্লেখ্য বরুড়া ফেয়ার হসপিটাল ও ডাঃ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক রোগীকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মামলা হামলা ও জরিমানা হয়েছে।