শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট খরচ বাড়লো

মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট খরচ বাড়লো

মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট খরচ বাড়লো

ডেক্স রিপোর্ট : নতুন অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল ফোনের সেবার ওপর কর আরেক দফা বাড়িয়েছে সরকার। ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো ও ডেটা ব্যবহারের খরচও বেড়ে যাবে। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে ১০০ টাকা রিচার্জে সরকারি কোষাগারে কর হিসেবে যাবে ২৫ টাকার কিছু বেশি।

‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’ শিরোনামে করোনাভাইরাসের সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে টিকে থাকা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা সামনে রেখে আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য এ বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।

প্রথমবার মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটে। তখন ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব হলেও পরে তা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। আপস…

বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করে সরকার। এবার নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

এতে মোবাইল ফোন সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ সারচার্জ, ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং সব মিলে মোট কর বেড়ে দাঁড়াবে ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশে। এর মানে, সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়লে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কেউ যদি ১০০ টাকার সেবা নিতে চান, তাহলে ৭৫ টাকার সেবা পাবেন। বাকি ২৫ টাকা যাবে সরকারের কোষাগারে। এতদিন তা ছিল ২২ টাকার মতো।

শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটর গ্রামীনফোণ ও রবির হিসাবে তাদের মোট রাজস্ব আয়ের ৫৩ থেকে ৫৬ শতাংশই সরকারের কোষাগারে নানা কর, ফি বা মাশুল হিসেবে চলে যায়। দেশে মার্চ শেষে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৬ কোটি ৫৩ লাখের বেশি।

প্রস্তাবিত বাজাটে কার ও জিপ নিবন্ধনে সম্পূরক শুল্ক ১০ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ১৫ ভাগ করা হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত এসব যান ব্যবহারে খরচ বাড়বে। প্রসাধনী সামগ্রীর সম্পূরক শুল্ক ৫ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ১০ ভাগ করায় দাম বাড়বে এসব পণ্যের।

এছাড়া তামাকজাত পণ্যের দামও বাড়বে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের নিম্ন স্তরের দশ শলাকার দাম ৩৯ টাকা ও তার বেশি এবং সম্পূরক শুল্ক ৫৭ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। মধ্যম স্তরের দশ শলাকার দাম ৬৩ টাকা ও তার বেশি, উচ্চ স্তরের দশ শলাকার দাম ৯৭ টাকা ও তার বেশি এবং অতি উচ্চ স্তরের দশ শলাকার দাম ১২৮ টাকা ও তার বেশি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ তিন স্তরের সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া দাম বাড়ছে প্যাকেটজাত খাদ্য, আমদানি করা তরল ও গুঁড়া দুধ, বাদাম, ফল, মধু, জ্যাম, জেলি, আইসক্রিম, লবণ, কসমেটিকস, এলকোহল, সিগারেট ও চকলেটের।

ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ টাকার বেশি থাকলে আবগারি শুল্ক আড়াই হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার এবং ৫ কোটির বেশি হলে এই হার ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বসত্ব ® দেশের সময়.কম কর্তৃক সংরক্ষিত।