শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আলামিয়া- নুরুল ইসলাম স্মৃতি ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে পবিত্র কছিদা বুরদা শরীফ খতমে খাজেগান, খতমে শেফা শরীফও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না : হানিফ ইচ্ছে পূরন রক্তদান সংস্থা’র উদ্যােগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস মানবিক শহর গড়তে প্রয়োজন হাঁটা ও সাইকেলবান্ধব পরিবেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্টিত হল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ২০২০ “ দে‌বিদ্বার উপ‌জেলা স্টুডেন্টস অ্যা‌সো‌সি‌য়েশন অব তিতুমীর ক‌লেজ (ডুসা‌ট)’র ক‌মি‌টি ঘোষনা মুজিবের বাংলাদেশে মাওলানা আহমদ শফী দ্বীনের জন্য আমৃত্যু কাজ করেছেনঃ এনডিপি অসহনীয় লোডশেডিংয়ে ডেমড়ায় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজিবন শাহ আহমেদ শফি’র শেষ বিদায় জানাতে হাটহাজারীতে মানুষের ঢল
বাবা হোক প্রত্যক সন্তানের জীবনে আমৃত্যু অনুষঙ্গ

বাবা হোক প্রত্যক সন্তানের জীবনে আমৃত্যু অনুষঙ্গ

বাবা হোক প্রত্যক সন্তানের জীবনে আমৃত্যু অনুষঙ্গ

ডেস্ক নিউজঃ সত্যি বলতে বাবার অবস্থান অন্যকিছু দিয়ে পুরণ হয় না। বাবার তুলনা শুধুই বাবা। বাবা-মা পৃথিবীর আলো দেখায়। কোলে-পিঠে লালন পালন করে। নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয় সন্তানদের জন্য। কোন রিটার্ন প্রত্যাশা করে না। পৃথিবীতে সকল বিনিয়োগেই আউটপুট হিসেব করে করা হয়। কেবল বাবা-মা তাঁদের সর্বস্ব বিনিয়োগ করে কোন প্রাপ্তি আশা করে না। বাবা মানে বটবৃক্ষ, প্রখর রোদে শীতল ছায়া। বাবা মানে নির্ভরতা, অন্ধকারে পথের দিশা। আদর-শাসন, আশ্রয়-প্রশ্রয় আর মমতায় মাখা আমাদের প্রিয় ‘বাবা’। ‘বাবা’ ছোট্ট একটি শব্দ। অথচ এর ব্যাপকতা বিশাল। ‘বাবা’ শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর মমতা-ভালোবাসা, নিরাপত্তা আর নির্ভরতা। বাবা দায়িত্বশীল স্নেহময় একজন পুরুষ। যিনি দুঃসময়ে সন্তানদের বুকে চেপে রাখেন। দুঃখ কষ্টকে মাথায় নিয়ে সন্তানদের আলোকিত করার চিন্তায় নিমজ্জিত থাকেন। সন্তানের মুখে শুধু একবার বাবা ডাকতে শোনলেই নিমিষেই তিনি সকল দুঃখ ভুলে যান। তাইতো বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক এত সুমধুর-বন্ধুত্বের। সন্তানের কাছে বাবা হচ্ছেন পথ প্রদর্শক।
ইরানে বাবা দিবস পালিত হয় ১৪ই মার্চ। ইতালি, পর্তুগালসহ কয়েকটি দেশ বাবা দিবস ১৯শে মার্চ। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাবা দিবস ৮ই মে। ডেনমার্কে বাবা দিবস ৫ই জুন। পোল্যান্ড ও উগান্ডায় বাবা দিবস ২৩শে জুন। আর্জেন্টিনায় বাবা দিবস ২৪শে আগস্ট। চীন ও তাইওয়ানে বাবা দিবস ৮ই আগস্ট। সেপ্টেম্বর মাসের পূর্ণিমায় বাবা দিবস পালন করে নেপাল। বাংলাদেশে বাবা দিবস হচ্ছে আজ ১৬ই জুন।
হিন্দি ভাষায় বাবাকে ডাকা হয় পিতাজী। ভাষাভেদে শব্দ কিংবা স্থানভেদে উচ্চারণের বদল হলেও রক্তের টান কিন্তু অভিন্ন। বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা সবার উর্ধ্বে। পৃথিবীতে যদি কোনো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থাকে-তা হলো, সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা। সন্তানের জন্য বাবা-মা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছেন। তিনি সন্তান হুমায়ুনের জীবনের বিনিময়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি।
আমিও আজ বাবা হয়েছি। বাবা হওয়ার পর বুঝেছি পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আমার সন্তান। তেমনি আমার জন্মদাতা পিতা-মাতা বাড়িতে অবস্থান করছেন। মায়ের নিয়ে অনেক কথা আছে সেটা আজ না বলি। বাবার দুয়েকটা কথা বলার চেষ্টা করি। বাবার বাবা ছিলেন একজন জমিদার। সন্তান সন্ততি ১০জন। বাবার অবস্থান অষ্টম। দাদার জমিদারিত্বের বাহাদুরিতে বাবার পড়াশুনা মেট্রিকের পরেই চুকে গেছিলো। দাদার সম্পত্তির ১০ ভাগে বেশ ভালোই হিস্যা মিলেছে। সেই হিস্যা চাষাবাদ করে কষ্টে আমাদের মানুষ করেছে। সাধ্য না থাকলেও সাধ ছিলো অনেক বেশি। গ্রামে একজন ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছিলো যখন আমার বয়স ১৪ বছর। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করি। যিনি ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছিলেন সে ছিলো তার শিক্ষকের বড় সন্তান। আমিও বাবার বড় সন্তান। বাবার ইচ্ছা ছেলে বড় হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হবে। কিন্তু কেন ম্যাজিস্ট্রেট হতে হবে এই হিসাব আমি আজও মিলাতে পারিনি। একটা বিষয় বুঝতে পারতাম অন্য চাচাদের মধ্যে যারা চাকরিজীবী ছিলো ,তাদের সাথে হয়তো কোন বিষয়ে মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব ছিলো। সংসারে মাঝে মাঝে টানাপোড়েন থাকলেও খুব বেশি অভাবে ছিলাম না। যাহোক অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। বাবার আশা পূরণ হয়েছে। দুটো বোন পড়াশুনা শেষ করে তাদের সংসার করছে। আরো দুটো ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। বাবার স্বপ্ন আস্তে আস্তে বড় হয়ে পরিপক্কতার দিকে যাচ্ছে। জানি না বাবা সেইদিন দেখে যেতে পারবে কিনা!
সম্প্রতি বাবার শরীরের অবস্থা খুব বেশি ভাল না। সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জানিনা ভাগ্যে কী আছে আমাদের। সেটা জানে শুধু তিনিই যিনি বাবাকে বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আর তিনিই তো পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক। মহান রব্বুল আলামিনের ঈশারা ছাড়া তো আর পৃথিবীতে কিছুই হয় না। এখন আমার প্রত্যাশা দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। আমার দুটি সন্তান আর আমার জন্মদাতা আমার পিতা-মাতা যেন আমৃত্যু বেঁচে থাকে। যেন আমার জীবনের আমৃত্যু অনুষঙ্গ হয়ে। আজকের ‘বাবা দিবস’ এ সবার কাছে আমার বাবার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা।
লেখক : মোঃ মনজুর হোসেন, সিনিয়র সহকারী সচিব, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মানিকগঞ্জ।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বসত্ব ® দেশের সময়.কম কর্তৃক সংরক্ষিত।