বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
“রাঙ্গুনিয়ায় বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর এবং শরণাঙ্কর ভিক্ষুকে হত্যা ও দেশ ত্যাগের হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশী বৌদ্ধদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ”

“রাঙ্গুনিয়ায় বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর এবং শরণাঙ্কর ভিক্ষুকে হত্যা ও দেশ ত্যাগের হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশী বৌদ্ধদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ”

"রাঙ্গুনিয়ায় বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর এবং শরণাঙ্কর ভিক্ষুকে হত্যা ও দেশ ত্যাগের হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশী বৌদ্ধদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ"

হাকিকুল ইসলাম খোকন,মো:নাসির,হেলাল মাহমুদ,বাপসনিঊজ:সম্প্রতি চট্রগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া থানার ফলাহারিয়া গ্রামের বৌদ্ধ বিহারে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক বৌদ্ধ স্থাপনা ভাংচুর ও কোন প্রকার কোর্ট আদেশ ছাড়া বিহারে প্রবেশ করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে পুলিশের দুর্ব্যবহার ও অশোভনীয় আচরণের ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার একটি ঘৃণ্য প্রচেষ্টা চলছে। এই ঘটনাটি ঘটানোর পিছনে যে ব্যক্তি জড়িত মিডিয়ার সুবাদে জানা যায় তাঁর নাম এরশাদ মাহমুদ এবং সম্পর্কে তিনি তথ্য মন্ত্রী জনাব হাসান মাহমুদের ভাই। রাঙ্গুনিয়ার এই এরশাদ মাহমুদ হাজার হাজার একর সরকারী জায়গা বিশেষ করে বন বিভাগের জায়গা দখল করে এবং পরিবেশ বিপন্ন করে ৫০টির মতো বিভিন্ন ধরনের পশু, গয়াল, গরু, ছাগল, হস্ মুরগি ইত্যাদি এবং অবৈধ ভাবে সরকারি পার্বত্য এলাকায় বিশাল বিশাল পুকুর খনন করে মাছের চাষ করে আসছেন। এলাকায় তাঁর ৬০ থেকে ৭০টির মত বন্যপ্রাণী গয়ালের ও একটি খামার রয়েছে বিধায় তিনি গয়াল এরশাদ নামেও এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন ।
১. https://www.youtube.com/watch?time_continue=37&v=cC-9-JerPTU&feature=emb_logo ২. http://www.ekusheypatrika.com/archives/29313
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এই গয়াল এরশাদ স্থানীয় জ্ঞান শরণ বৌদ্ধ বিহারের জায়গাটি দখল করার জন্য সাধক ভিক্ষু শরণাঙ্কর থেরকে উক্ত বিহার থেকে উৎখাতের জন্য নানা ভয়ভীতি দেখানো সহ বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছেন। বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাঙ্কর থের স্থানীয় থানায় গিয়ে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করার চেষ্টা করলেও রাংগুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি, এরশাদ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বার বার অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এবং চেয়ারম্যানের মাধ্যমেও ঘটনার একটি সুরাহা করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁরাও তাকে ফিরিয়ে দেন। গত ১০ই জুলাই উক্ত গয়াল এরশাদ বা এরশাদ মাহমুদ কোন রকম কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশ ছাড়া অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে একটি স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী এবং স্থানীয় থানার পুলিশকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে বৌদ্ধ বিহারে প্রবেশ করে এবং ঐ সন্ত্রাসী দল নির্মাণাধীন বৌদ্ধ স্থাপনাটি ভেঙ্গে দে এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এর কারন এবং প্রতিবাদ জানালে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং লাঞ্চিত করে।
এমতাবস্থায় নিরুপায় হয়ে উক্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জন নেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন এবং তাঁর এই বৌদ্ধ বিহারটি রক্ষা করার ও নিরাপত্তা প্রদানের জন্য গত ১০ই জুলাই অত্যন্ত বিনীত ভাবে আবেদন জানান। https://www.youtube.com/watch?v=5ZhY0f0WK1I
তাঁর এই ভিডিও বার্তাটি প্রকাশ হলে এবং তা ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়ে পড়লে উক্ত গয়াল এরশাদ অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং ২০১২ সালের রামুর ঘটনাটির মতো ফেইস বুকে অজ্ঞাত একজন হিমেল হিমু নামের একাউন্ট থেকে ভান্তের ছবি ব্যবহার করে এবং মহানবীকে কটুক্তি করে কিছু বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়কে ঐ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত করে তোলার চেষ্টা করে এবং টাকার বিনিময়ে মানব বন্ধনের নামে স্থানীয় কিছু লোকজনকে জড়ো করে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এদিকে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ গ্রহণকারী এক বক্তার সাথে তাঁর কথোপকথনে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি নিজের অজান্তে স্থানীয় একটি টেলিভিশনে সম্প্রচার হয়ে যায়, যাতে তিনি টাকা পয়সা যা লাগে তা দিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নির্দেশ দিয়ে গাড়িতে করে দ্রুত চলে যান। তাঁর চক্রান্তের সমগ্র বিষয়টি জনৈক আসাদ নূর নামক এক ব্যক্তি তার বেশ কয়েকটি ভিডিওর মাধ্যমে তথ্য প্রমান সহ ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াতে প্রচার করতে থাকলে জনগন সেই গয়াল এরশাদের ষড়য্ন্ত্রটি বুঝতে পারেন। এবং সকল প্রকার মানব বন্ধন পরিত্যাগ করেন । https://www.youtube.com/watch?v=muUeH0kPHqo&t=703s
সন্ত্রাসী দিয়ে বৌদ্ধ বিহারের স্থাপনা ভাঙ্গচুর করা, প্রতিনিয়ত বৌদ্ধ ভিক্ষুকে বিহার ত্যাগের ও হত্যার হুমকি দেয়া, বিহার দখলের চেষ্টা ইত্যাদি অপচেষ্টাকে ঢাকার জন্য এবং সাধারণ জনগণ এবং সংখ্যালঘু বৌদ্ধদের কাছে আসল ঘটনা আড়াল করার জন্য এই এরশাদ বৌদ্ধ এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো চেষ্টা চালায় এবং তাতে ব্যর্থ হয়।
অতঃপর এই গয়াল এরশাদ এখন স্থানীয় বৌদ্ধ গ্রামের প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কাউকে ২০ হাজার কাউকে ৩০ হাজার করে টাকা এবং সাথে চাউল বিতরণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাঙ্কর থের এর পক্ষ অবলম্বন না করার এবং তাঁর বিরুদ্ধে নানা প্রকার অপপ্রচার করার জন্য বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধ জনগণকে চাপ প্রয়োগ করা শুরু করে।
কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘাত না হওয়ার পরও সেই গয়াল এরশাদ এবং স্থানীয় সাংসদ ও তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ দফায় দফায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা ও ধর্মীয় গুরুদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করে সকলের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্রগ্রামের একজন পত্রিকার মালিক জানালেন হাসান মাহমুদ তথ্য মন্ত্রী বিধায় রাংগুনিয়া ফলাহারিয়া গ্রামের বৌদ্ধ বিহারে সন্ত্রাসী হামলা এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুর প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিহার ও জীবন রক্ষার ভিডিও বার্তাটির উপর কোন ধরনের সংবাদ বা তথ্য পরিবেশন থেকে বাংলাদেশের মিডিয়া জগৎ ভয়ে বিরত রয়েছে কেননা এতে করে সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের জনগণ রাঙ্গুনিয়ার এই জঘন্য ঘটনাটির উপর কোন ধরনের খবর জানতে পারছে না। ১. https://www.jagonews24.com/politics/news/598361 ২. https://dailypurbodesh.com/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AD%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AA/ এদিকে গত ১৬ই জুলাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি বিশ্বব্যাপী ভারচ্যুয়াল (জুমকল) প্রতিবাদে প্রায় পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশী বৌদ্ধ ও বিশ্বের বেশ কয়েকজন মানবাধিকার ও রাজনৈতিক নেতা অংশ গ্রহণ করেন এবং তাঁদের ক্ষোভ এবং প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন। একটি স্মারক লিপির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির আহবান জানান। বাংলাদেশের বৌদ্ধরা নিরাপত্তার কারনে রাঙ্গুনিয়ার ধর্মীয় স্থানে সংগঠিত ঘটনাটির সরাসরি কোন প্রতিবাদ
করতে না পারলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী বৌদ্ধরা ঘটনাটির তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানব বন্ধন করে যাচ্ছে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বসত্ব ® দেশের সময়.কম কর্তৃক সংরক্ষিত।