সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দে‌বিদ্বার উপ‌জেলা স্টুডেন্টস অ্যা‌সো‌সি‌য়েশন অব তিতুমীর ক‌লেজ (ডুসা‌ট)’র ক‌মি‌টি ঘোষনা মুজিবের বাংলাদেশে মাওলানা আহমদ শফী দ্বীনের জন্য আমৃত্যু কাজ করেছেনঃ এনডিপি অসহনীয় লোডশেডিংয়ে ডেমড়ায় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজিবন শাহ আহমেদ শফি’র শেষ বিদায় জানাতে হাটহাজারীতে মানুষের ঢল নাসিম-সাহারা খাতুন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথে থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি সর্বদাই আস্হাশীল ছিলেন-মন্ত্রীবর্গ ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কুমিল্লার বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে তরুণীকে গণধর্ষণ; আটক ২ পলাতক ১ কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির “ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভবন” নির্মিত হতে যাচ্ছে জাজিরায় নদী খননের বালু লুটপাটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি যুক্তরাষট আওয়ামী লীগ ও আওয়ামীপরিবারের প্রতিবাদ সভা
দেবিদ্বারে কলেজছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

দেবিদ্বারে কলেজছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

দেবিদ্বারে কলেজছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

দেবিদ্বার প্রতিনিধি : দেবিদ্বারে কলেজছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, পরিবারের দাবি খুন
কুমিল্লার দেবীদ্বারে কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ধোয়াশা কাটেনি। পরিবারের দাবি খুন। ছবি: ইত্তেফাক
কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রেম ঘটিত কারণে মহিন নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিকার বাবা ও ভাইয়েরা মিলে তাকে হত্যা করেছে বলে ঘটনার চার দিন পর এমন দাবি করেছে মুহিনের পরিবার। এদিকে প্রেমিকার পরিবারের দাবি, সে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। তবে মুহিনকে হাসপাতালে নেওয়া এবং কাফন করানো কেউই মুহিনের মুখে বিষের গন্ধ কিংবা লালা পাননি বলে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে মহিনের মা সুরাইয়া বেগম জানান, ‘আমার ছেলে মুহিনকে তারা মেরে ফেলেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাইতে এবং মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য আগামী রবিবার আবেদন করবো, আশা করি ন্যায় বিচার পাবো।’

নিহত মুহিন চুলাশ গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল হাশেমের ছেলে। সে স্থানীয় রাজামেহার ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

মহিনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে মহিন ও এক স্কুলছাত্রীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। গত শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার রাজামেহার ইউপি’র বেতরা গ্রামের প্রেমিকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে প্রেমিকার পরিবার দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন ও এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেন। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নিহত মুহিনের স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করতে বাধ্য করান।

নিহত মুহিনের বন্ধু মিনহাজ জানান, গত ৫/৬ মাস আগে ওই স্কুলছাত্রীর ভাইয়েরা ইভটিজিংয়ের অভিযোগে এনে মরিচা ছায়েদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ে মুহিনকে বেদম মারধর করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় লিখিত একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে মুহিনকে ছাড়িয়ে আনেন তার মা। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় মুহিনকে মারধরের হুমকি দিয়ে আসছিল।

নিহতের পরিবার ও মুহিনের বন্ধুরা জানান, গত শনিবার রাতে তারা দুজনই পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে মেয়েটির বাড়ির আঙ্গিনায় মিলিত হয়। পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে মেয়েটির বড় ভাই মেহেদি হাসান মুহিনের খালাতো ভাই আবু তাহেরের কাছে ফোন করে বলেন, ‘তোর ভাই এখানে বিষ খেয়েছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও’।

নিহতের খালাতো ভাই আবু তাহের জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুহিনের মৃত্যু হয়। এসময় তার মুখে বিষের কোনো গন্ধ পাওয়া যায়নি।

মুহিনের লাশ কাফনকারী মাও. আবদুল জলিল এ প্রতিবেদককে জানান, মুহিনের অ-কোষ লাল হয়ে ফুলে ছিল। তার মুখ থেকে বিষের গন্ধ বা মুখ থেকে লালা বের হয়নি। শরীরের অন্য কোথায়ও আঘাত দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে ওই স্কুলছাত্রী মুহিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ছবিগুলো পাওয়া গেছে ছবিগুলো তার ও মুহিনের। মুহিন তাকে বাড়ি থেকে পালানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে চাপ দিতো। আমি তার সঙ্গে না পালালে সে আমার বাড়িতে এসে সুইসাইড করবে বলে আমাকে একাধিকবার বলেছে। ওই রাতে কি ঘটেছে ? এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যায় ওই স্কুলছাত্রী।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জহিরুল আনোয়ার বলেন, মহিনের মৃত্যুর খবর কেউ থানায় জানায়নি। জানালে ময়নাতদন্ত করা হতো। এ ঘটনার ব্যাপারে নিহতের পরিবার থেকে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। আদালত থেকে কোনো নির্দেশনা এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বসত্ব ® দেশের সময়.কম কর্তৃক সংরক্ষিত।