শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা পরিচালনায় ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রের সহায়তা চাইলেন সৌদি নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতওআইসিরস স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) হাতিয়ায় ৫ হাজার তালবীজ বপন করেছে উপক’ল ফাউন্ডেশন কমলগঞ্জ শারদীয় দূর্গাপূজায় ৩দিনের সরকারি ছুটির দাবিতে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ পরিবার পালন করলো প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করলো নিউইয়র্ক মহানগর যুবলীগ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা মহানগর আ’লীগের উদ্দোগে নবজাগরণের অগ্রদূত প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী পালন হাতিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দিন ব্যাপি কর্মসূচী পালিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে-মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আলামিয়া- নুরুল ইসলাম স্মৃতি ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে পবিত্র কছিদা বুরদা শরীফ খতমে খাজেগান, খতমে শেফা শরীফও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না : হানিফ
অনলাইন প্রাইমারী স্কুলই হাতিয়া উপজেলার প্রাথমিকের শিক্ষার্থিদের একমাত্র ভরসা

অনলাইন প্রাইমারী স্কুলই হাতিয়া উপজেলার প্রাথমিকের শিক্ষার্থিদের একমাত্র ভরসা

হাতিয়া অনলাইন প্রাইমারী স্কুলই হাতিয়া উপজেলার প্রাথমিকের শিক্ষার্থিদের একমাত্র ভরসা

উত্তম সাহা,হাতিয়া প্রতিনিধি : করোনাকালীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকে সামনে এগিয়ে নিতে হাতিয়া উপজেলার একদল তরুন প্রাথমিক শিক্ষক Hatiya Online Primary School ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে প্রতিদিন লাইভ ক্লাসে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।করোনা মহামারীর কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও বসে নেই একদল তরুন প্রতিভাবান শিক্ষক। তারা প্রতিদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষামূলক ফেসবুক পেইজে অনলাইন ক্লাস দিয়ে যাচ্ছেন।

হাতিয়া উপজেলার স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপ তিলোত্তমা হাতিয়া সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনেক পেজে ক্লাসগুলো প্রচার করা হচ্ছে।যাহা বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌছে যাচ্ছে।হাতিয়া উপজেলার শিক্ষকগণ নিজ উদ্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে নিজেদেরকে সক্রিয় রেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণ এবং প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য পূরণে নিয়োজিত রাখার এ কর্মকান্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মাহবুব মোর্শেদ লিটন তিনি গত ২৭ আগস্ট ২০২০ Hatiya Online Primary School পেইজের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন।এছাড়া হাতিয়া উপজেলার সম্মানিত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ মোসলে উদ্দিন এবং জনাব কামরুল হাসান পৃথক ব্রিফিং প্রদান করেন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে একটি বছরের অর্ধেক সময় অর্থাৎ ছয় মাসের অধিক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে। ১৭ মার্চ হতে বন্ধ হওয়া এবং ধাপে ধাপে ছুটি বর্ধিত করে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন এবং পরিস্থিতি দেখে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে খুলবে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়া অনলাইন প্রাইমারী স্কুলেরর লাইভ ক্লাস কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর উদ্দেশ্য করোনাকালে শিক্ষার্থীরা যেন পাঠ্যবই বিমুখ না হয়। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে ল্যাপটপ অথবা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এসব ক্লাসের মাধ্যমে তাদের লেখাপড়ার কাজটা অব্যাহত রাখতে পারছে। হাতিয়া অনলাইন প্রাইমারী স্কুল পেজে ইতোমধ্যে যে সকল সুপার টিচারগণ ক্লাস দিয়ে যাচ্ছেন তারা হলেন লিমা দাস,মোঃ নুরনবী,ইসরাত জাহান,রেশমা বেগম,রাফেয়া হ্যাপি,দ্বিদল চন্দ্র শীল,মোঃ ইলিয়াছ,মোঃ মফিজ উদ্দিন আহমেদ,এ.এন.এম রাশেদুল ইসলাম,আল আসমাউল হোসেন,কাজী নুরনবী বিপ্লব,শিমুল রানী দাস,মাসুমা আকতার,কাজী মাজ্দ উদ্দিন মাসুম,আবদুর রহমান বিশ্বাস,মাহবুবুর রহমানসহ আরো অনেক আলোকিত শিক্ষক।
শিক্ষার্থীরা এ সকল ক্লাসে তাদের মতামত, সমস্যা, মন্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।প্রতিদিন মেসেনজার বা কমেন্ট বক্সে বাড়ির কাজ পৌঁছে দিচ্ছে। টেলিভিশনের শিক্ষা কার্যক্রমটি একমুখী হলেও এই কার্যক্রমটি দ্বিমুখী। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে এটি আরও আগ্রহ ও আনন্দময় হয়ে উঠেছে। অনলাইনভিত্তিক এই শিক্ষা কার্যক্রমেরর ফলে করোনাকালের শিক্ষা ঘাটতি যেমন পুষিয়ে নেয়া যাবে তেমনি শিক্ষার্থীদের কোচিং নির্ভরতাও কমবে।
সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে পদক্ষেপ নিয়েছে করোনাকালে তার সুফল দেশবাসী পেতে শুরু করেছে।
করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলেও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম থেমে নেই। এই করোনাকালেও প্রাথমিক শিক্ষকদের মাধ্যমে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করা এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক পাঠদান অব্যাহত রেখে সপ্তাহে দু’দিন পড়া দেওয়া ও নেওয়া, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সংসদ টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইন স্কুলের পাঠদান সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং বেতারে প্রচারিত পাঠদানের সময়সূচি জানানো। শিক্ষকরা বাড়িতে বসেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খোঁজ রাখছেন। হাতে গোণা যে সকল শিক্ষার্থীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না, শিক্ষকরা তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। টেলিভিশনসহ অনলাইন স্কুলগুলোর ক্লাসের প্রতি মনোযোগের জন্য শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে। এরফলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে না এসেও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে কোনভাবেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে না।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সসময়েও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বাঁধাগ্রস্থ হয়েছিল। বাঙালি জাতি ঐকান্তিক চেষ্টায় সেই সময়েও সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছিল। করোনাকালেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক আর সর্বোপরি সরকারের প্রচেষ্টায় ডিজিটাল পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে এবারও শিক্ষার ক্ষত পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে।চরকৈলাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এসএমসি সভাপতি জনাব আবদুল্যাহ আল মামুন জানান
হাতিয়া উপজেলাতে পৌরসভা ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় শিক্ষার্থিরা সংসদ টোলিভিশন দেখার সুযোগ পাচ্ছেনা।তাছাড়া সংসদ টেলিভিশনে যখন ক্লাস চলে তখন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। হাতিয়া অনলাইন পেইজের চীফ এডমিন মোঃ মফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান গত এপ্রিল মাস থেকে আমরা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে আনার জন্য অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করে আসছি।নানান প্রতিকূলতার মাঝে শিক্ষকগণ পাঠ দিয়ে যাচ্ছেন লাইভ ক্লাসে।উপজেলা প্রশাসন থেকে যদি প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা পেতো তাহলে আরো উৎসাহ নিয়ে শিক্ষকগণ অনলাইন ক্লাসে এগিয়ে আসতো।আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে আনা। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ মোসলে উদ্দিন জানান হাতিয়া অনলাইন প্রাইমারী স্কুল পেজের মাধ্যমে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।কারণ এ পেজে হাতিয়ার সুপার টিচারগণ ক্লাস নিয়ে থাকেন।তিনি বলেন যদি আরো শিক্ষকগণ অনলাইন ক্লাসে এগিয়ে আসেন তাহলে শিক্ষার্থীদের খুব উপকার হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা পিছিয়ে পড়া রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব ভব রঞ্জন দাস বলেন, অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করা করোনাকালীন সময়ে নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বসত্ব ® দেশের সময়.কম কর্তৃক সংরক্ষিত।